কবি তানজিন তামান্না অর্ণার কলমে উঠে এসেছে দুটি কবিতা, যা মানুষের মনের গহীনে থাকা বিষাদ ও অনুভূতির এক নিবিড় বহিঃপ্রকাশ। প্রথম কবিতায় কবি তুলে ধরেছেন সেই নিঃসঙ্গতার কথা, যা মুঠোফোনের দেয়ালে বন্দী হয়ে রয়ে যায়। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই ভালোবাসার মাদকতা আজ কেবল স্মৃতির পাতায় অস্পৃশ্য হয়ে আছে। কবি লিখেছেন, যে চাহনির উষ্ণতা একসময় হৃদয়ে উন্মাদনা ছড়িয়েছিল, আজ সেই ভাষা হারিয়ে গেছে নিঃশব্দের আন্দোলনে। ধিমে আঁচে জ্বলা নির্বাক বাসনা আজ ক্লান্ত দেহে ভস্মীভূত, আর প্রিয়জন ডুবে গেছেন কালো সময়ের অতল জলে।
দ্বিতীয় কবিতায় উঠে এসেছে জীবনের চরম হতাশা ও একাকীত্বের চিত্র। কবি প্রশ্ন রেখেছেন, কেন স্বপ্নের সরিষা ফুটিয়ে সিলিংয়ে আহুতির বন্দোবস্ত করা হলো? সুইসাইড বা আত্মহননের অন্ধকারের আবডালে ভায়োলিনের করুণ সুর যেন এক গোপন সম্ভাষণ হয়ে বাজে। দেওয়ালে অবুঝ দৃষ্টি আর চুমুকে চুমুকে কষ্ট হজমের চেষ্টার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে এক গভীর মানসিক সংকট। সেকেন্ডের কাটায় শ্বাসের দৌড়াদৌড়ি আর স্বপ্নের সাদা কাফনে মোড়ানো সেই অসার দেহ যেন ডিপ্রেশনের বহু ঊর্ধ্বে। আলো-আঁধারের গোপন সুড়ঙ্গে নিজেকে হারিয়ে ফেলার নেশায় মগ্ন কবি যেন কেবল একটি সিলিং এবং রশির প্রয়োজনীয়তার কথা বলে জীবনের চরম পরিণতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।





