৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসিফ নজরুলের একার ছিল: তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশ:

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ না করার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিন সদস্যের এই কমিটি ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেয়। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বকাপে দলের অনুপস্থিতির কারণ জানতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্তটি কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল কোনো ধরনের মতামত গ্রহণ ছাড়াই এককভাবে এই সিদ্ধান্তটি চাপিয়ে দেন। ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি শুধু নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। তবে আসিফ নজরুল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কারও পরামর্শের প্রয়োজন অনুভব করেননি।

বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যেও অসংগতি পাওয়া গেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা মাঠের অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছিলেন, সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও খেলোয়াড়দের নেওয়া। তিনি সে সময় একে একটি 'অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। অথচ এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, ২২ জানুয়ারি তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিসিবি আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করলে সরকার দলকে ভারতে না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিবি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।

শেয়ার করুন