৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জিন্নাহর আরাধনা: এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক বাস্তবতা

প্রকাশ:

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ব্যক্তিগত জীবন এবং তার রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে এক গভীর বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়, যা বর্তমান সময়ের অনেক অনুসারীর কাছে অজানা। জিন্নাহর বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল যে তিনি দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করতেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে বেশ আধুনিক ছিলেন। এমনকি তার দ্বিতীয় স্ত্রী অগ্নিউপাসক জরযুস্ত্র রত্তন বাঈ রুটীও নামাজ পড়তেন না এবং ধর্মে তাদের তেমন বিশ্বাস ছিল না। একবার বিপাকে পড়ে জিন্নাহকে মসজিদে যেতে হয়েছিল, তখন তিনি তার সঙ্গীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি নামাজ পড়ার নিয়ম জানেন না। এম. সি. চাগলার আত্মজীবনী 'রোজেস ইন ডিসেম্বর'-এ এমন অনেক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যেখানে জিন্নাহর ব্যক্তিগত অভ্যাসের প্রতিফলন ঘটেছে। চাগলা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রখ্যাত বিচারক ছিলেন।

একবার এক রেস্তোরাঁয় জিন্নাহ ও চাগলা কফি ও শুকরের মাংসের সসেজ খাচ্ছিলেন। সেই সময় এক বৃদ্ধ তার ১০ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে জিন্নাহর সাথে দেখা করতে আসেন এবং শিশুটি প্লেট থেকে সসেজ খেয়েছিল। চাগলা পরে জিন্নাহর প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি কেন শিশুটিকে সসেজ খাওয়া থেকে আটকাননি। জিন্নাহ ও রুটী উভয়েই অভিজাত জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন এবং ফ্রেঞ্চ ওয়াইন, স্কচ হুইস্কি, সিগার ও বিলিয়ার্ডের প্রতি তাদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। স্ট্যানলি ওলপার্টের 'জিন্নাহ অব পাকিস্তান' গ্রন্থটি জিন্নাহর জীবন ও রাজনীতির ওপর একটি বস্তুনিষ্ঠ জীবনী হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে তাদের এই জীবনধারা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে জিন্নাহ কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে গান্ধীর সাথে মতপার্থক্যের কারণে তিনি লন্ডন চলে যান এবং আইন পেশায় নিয়োজিত হন। আল্লামা ইকবালের চিঠির অনুরোধে এবং লিয়াকত আলী খান ও তার স্ত্রী রানা লিয়াকতের প্রচেষ্টায় তিনি মুসলিম লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একজন ঘোরতর নাস্তিক হয়েও একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্ণধার হওয়া এবং একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের জাতির পিতা হওয়াকে অনেকেই বিস্ময়কর বলে মনে করেন। ভারতেও সাভারকারের মতো নাস্তিক ও যুক্তিবাদী ব্যক্তি হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা বর্তমান বিজেপির রাজনীতির পথপ্রদর্শক। বাংলাদেশে যারা আজ জিন্নাহর আরাধনা করছেন, তারা সম্ভবত তার এই আধুনিক ও নাস্তিক্যবাদী পরিচয় সম্পর্কে অবগত নন। যদি তারা জানতেন জিন্নাহ নাস্তিক ছিলেন এবং শুকরের মাংস, ফ্রেঞ্চ ওয়াইন ও স্কচ হুইস্কি ছাড়া তার চলতোই না, তবে কি তারা এমন আরাধনা চালাতেন?

জিন্নাহর বিরুদ্ধে দুটি বড় অভিযোগ ছিল—প্রথমত তিনি দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করতেন এবং দ্বিতীয়ত তিনি নামাজ পড়তেন না৷ এমন কি তাঁর ফ্যাশনদূরস্ত দ্বিতীয় স্ত্রী অগ্নিউপাসক জরযুস্ত্র রত্তন বাঈ রুটীও নামাজ পরতেন না৷ ধর্মে তাদের বিশ্বাসও ছিল না৷ একবার বিপাকে পড়ে জিন্নাহকে মসজিদে যেতে হয়৷ জিন্নাহ তাঁর সাথের একজনকে জানালেন, নামাজ কীভাবে প

এক দুপুরে জীন্নাহ ও তাঁর এক সময়ের আইনি সহকারী মহম্মদ আলী করিম চাগলা এক রেস্তোরায় বসে কফি ও শুকরের মাংসের সসেজ খাচ্ছিলেন৷ এক বৃদ্ধ তার ১০ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে আসলেন জিন্নার সাথে দেখা করতে৷ শিশুটি প্লেট থেকে শুকরের সসেজ খুব তৃপ্তিসহ খেতে থাকে৷ তারা চলে গেলে জিন্নাহ রেগে চাগলাকে বলে, 'চাগলা তোমার লজ্জা পাওয়া উচিৎ৷ ওকে সসে

শেয়ার করুন