৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী

প্রকাশ:

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কৌশল প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করলেও ভোটের মাঠে তাদের সমর্থন ও প্রার্থীর পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে দুই সিটিতে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেছেন। আসিফ মাহমুদের জন্য এটি সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা, কারণ তিনি আগে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এর আগে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা না করলেও তাদের পছন্দের প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত। দলটির উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাদের দুই সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময়ই তাঁদের সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিটি করপোরেশনের সেবার মান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন এবং নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপি সরাসরি মনোনয়ন না দিলেও তৃণমূলকে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীও দুই সিটিতে তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত করেছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উত্তর সিটিতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটিতে ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেওয়া হবে। সেলিম উদ্দিন এর আগে সিলেট-৬ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সাদিক কায়েম বর্তমানে জামায়াতের সহযোগী সদস্য এবং গত জুলাই পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার জানান, সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সাড়া পাচ্ছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, জামায়াতের নগর ও ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ এবং এনসিপির জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—কোনটি ভোটারদের বেশি আকৃষ্ট করে, তা নির্বাচনের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে।

শেয়ার করুন