৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেশা হিসেবে শিক্ষকতা: মানুষ গড়ার এক মহান ব্রত

প্রকাশ:

পবিত্র কোরআনের প্রথম নির্দেশ ‘ইকরা’ বা পড় শব্দের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজও মানবসভ্যতার অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদ্যার গুরুত্ব বোঝাতে চীন পর্যন্ত গিয়ে জ্ঞান অর্জনের এবং দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং সভ্যতার আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত। জ্ঞান গবেষক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, শিক্ষা ছাড়া গণতন্ত্র অচল। জোহান হেনরিক পোস্তালৎসি শিক্ষাকে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির স্বাভাবিক, সুষম ও প্রগতিশীল বিকাশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, প্রকৃত শিক্ষা কেবল তথ্য দেয় না, বরং জীবনের সাথে সামঞ্জস্য তৈরি করে মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলি ও প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।

মানবজাতির গুহাবাসী জীবন থেকে আজকের মহাকাশ অভিযান পর্যন্ত প্রতিটি সাফল্যের পেছনে শিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষাই প্রগতি, যা মানুষকে অন্ধকারের অতল গহ্বর থেকে জ্ঞানের আলোয় নিয়ে আসে। কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হতে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা মানুষকে মানুষ হিসেবে চেনা ও পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে শেখায়, যা মানুষ ও পশুর মধ্যে প্রকৃত ব্যবধান তৈরি করে। তাই বলা যায়, শিক্ষা ব্যতীত কল্যাণের কোনো ধারাই সূচিত হওয়া সম্ভব নয়।

শিক্ষক হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি শিশু-কিশোর ও তরুণদের পাঠ্য বিষয়ের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, চরিত্র গঠন, শিষ্টাচার, মানবতাবোধ, দেশপ্রেম এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেন। একজন আদর্শ শিক্ষকের নিজস্ব মেধাশক্তি, জ্ঞান অন্বেষণের আগ্রহ, চারিত্রিক আদর্শ এবং নির্লোভ চিত্ত থাকা আবশ্যক। তিনি জ্ঞান বিতরণে অকৃপণ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পারঙ্গম।

শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। শৈশব থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের আদর, শাসন ও অনুপ্রেরণায় বেড়ে ওঠে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, লেখক কিংবা দেশ পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাফল্যের মূলে থাকেন তাদের শিক্ষকরা। তাই মাতা-পিতার পরেই শিক্ষকদের স্থান, এবং দেশ ও মানব কল্যাণে অকৃপণ জ্ঞান বিতরণের এই মহান পেশার নামই হলো শিক্ষকতা।

শেয়ার করুন