আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ওঠা ‘পাতানো ম্যাচ’ নিয়ে মুখ খুললেন কোচ স্কালোনি

প্রকাশ:

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতুক, তা অনেকেই চাইছেন না। এই ধরনের সমালোচনাকে তারা বরং দলের জন্য ভালো খেলার বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবেই গ্রহণ করছেন।

চলতি বিশ্বকাপে অনুকূল রেফারিং এবং তুলনামূলক সহজ নকআউট ড্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৭টা) কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বের শীর্ষ ১০ র‌্যাঙ্কিংয়ের কোনো দলের মুখোমুখি না হয়েই তারা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। এর আগে রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর মিশরীয় শিবির থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিতেই বিশ্বকাপ ‘পাতানো’ হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্বীকার করেন যে, দলের খেলোয়াড়দের কানেও এসব আলোচনার কথা পৌঁছেছে। তিনি বলেন, আমরা আগেরবার বিশ্বকাপ জিতেছি, তাই অনেকেই হয়তো চায় না আমরা আবার জিতি। এটি স্বাভাবিক। অন্য যেকোনো দলের ক্ষেত্রেও অনেকে এমনটা মনে করতে পারে। আমরা এই সমালোচনাকে বিদ্রোহের শক্তিতে রূপান্তরিত করি এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি করি যাতে তারা আরও ভালো খেলতে পারে।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। সেবারও অভিযোগ করা হয়েছিল যে আর্জেন্টিনা সুবিধা পেয়েছিল। ৪০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, আর্জেন্টিনা এমন একটি দল যাকে ঘিরে বিশ্বকাপে বিতর্ক হওয়াটা একরকম স্বাভাবিক।

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও কথা বলেছেন স্কালোনি। গোল হওয়ার ১০ সেকেন্ডের বেশি আগের ঘটনার প্রেক্ষিতে গোল বাতিল করা নিয়ে সমালোচনা হলেও স্কালোনির দাবি, ভিএআর কর্মকর্তারা টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় ভিএআর থাকলে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করা খুবই কঠিন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সব পরিস্থিতি স্পষ্ট করা হয়েছিল। সেই নিয়মই হুবহু অনুসরণ করা হচ্ছে, যেখানে দ্বৈত ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।

শেয়ার করুন