রাজাপুর মডেল মসজিদে ৮ দিন ধরে বিদ্যুৎ ও অজুর পানি নেই

প্রকাশ:

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা আটদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে তীব্র গরমে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের বৈদ্যুতিক পাখা, বাতি, মাইক ও এসিসহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া পানির পাম্প বন্ধ থাকায় ওজুর পানির সংকটে মুসল্লিরা বিপাকে পড়েছেন।

মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে বিকট শব্দ হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে কক্ষের ভেতরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, সার্কিট ব্রেকারসহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। সেই থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।

প্রতিদিন এই মসজিদে আড়াই থেকে তিন শতাধিক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন, তবে শুক্রবার জুমার নামাজে এই সংখ্যা ছয় থেকে সাত শতে উন্নীত হয়। নারী মুসল্লিরাও এখানে নামাজ পড়তে আসেন। বিদ্যুৎ ও অজুর পানির অভাবে নারী-পুরুষ উভয়ই তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, অজুর ব্যবস্থা না থাকায় স্টাফদের বাইরের পুকুর থেকে বালতি করে পানি এনে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে।

মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, অজুর পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় মুসল্লিরা বিড়ম্বনায় পড়েন। নামাজের সময় অজু করতে গিয়ে পানি না পাওয়ায় বাইরে যেতে হয়, এতে অনেক সময় জামাত ছুটে যায়। ইমাম মুফতি মো. আলী হোসেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, কারণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, মসজিদটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। বৃহস্পতিবার গণপূর্ত বিভাগের একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সমস্যাটি পরিদর্শন করেছেন। রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান জানিয়েছেন, খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। মেইন সুইচের পরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায়দায়িত্ব তাদের নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান, গণপূর্ত বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলে তারা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন