জনগণের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

প্রকাশ:

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রকাশ করেছেন। রবিবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ তার প্রশ্নে বর্তমান ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি ঋণের বোঝা কমানোর সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। নিজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ী ও অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঋণের ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার উন্নয়নের কার্যক্রম চলছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট সীমা বা সিলিং অনুসরণ এবং বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুদের হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি হবে।

সরকার অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে 'অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান' প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া নগদ অর্থপ্রবাহ ও ঋণের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে 'ক্যাশ ফোরকাস্টিং' এবং 'পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯'-এর বিধান অনুসরণের মাধ্যমে আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। সামগ্রিকভাবে এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

শেয়ার করুন