বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জন্মভূমির বিপক্ষে আবেগপ্রবণ হালান্ড

প্রকাশ:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করলেও হালান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডে। এখন বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে নিজের জন্মভূমিরই মুখোমুখি হতে চলেছেন তিনি। মিয়ামিতে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ম্যাচটিকে অত্যন্ত ‘বিশেষ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, ইংল্যান্ডে খেলার সুবাদে সেখানে তার অনেক সতীর্থ রয়েছেন, যার ফলে এই ম্যাচটি তার কাছে ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দিচ্ছে।

আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড যখন লিডস ইউনাইটেডে খেলতেন, সেই সময়েই ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। গত চার মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর নরওয়ের ফিরে আসার পেছনে হালান্ডই মূল নায়ক। নিজের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে সাত গোল করে তিনি দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।

নিজের এবং দলের এমন সাফল্যে কিছুটা বিস্মিত হালান্ড বলেন, তিনি এমনটা আশা করেননি। নরওয়েকে বিশ্বকাপের শেষ আটে দেখাটা তার কাছে বিস্ময়কর এবং ব্রাজিলকে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। নরওয়েতে যেভাবে মানুষ এই সাফল্য উদযাপন করছে, তা দেখে তিনি মুগ্ধ। তিনি জানান, নরওয়ের জন্য এটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়, তাই প্রতিটি মুহূর্তই খুব বিশেষ মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে না পারা ইংল্যান্ডের ওপর চাপ প্রয়োগ করার কৌশল নিয়েছেন হালান্ড। তার মতে, ইংল্যান্ড শিরোপার অন্যতম দাবিদার হওয়ায় তাদের খেলোয়াড়দের ওপর যতটা সম্ভব চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে, আর সেই স্বপ্ন পূরণের মূল ভরসা হিসেবে এখন হালান্ডের দিকেই তাকিয়ে পুরো দেশ।

শেয়ার করুন