স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে তরুণদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফেরানোর উদ্যোগ

প্রকাশ:

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ০৭। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের মোবাইল ও স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বুধবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে প্রবেশ করতে পারবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য কেবল নির্দেশনা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভার্চুয়াল জগত ও অনলাইন ভিডিওর প্রতি বর্তমান প্রজন্মের অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা থেকে তাদের বের করে এনে বাস্তব জগতের সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভাল্লুক ও কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণী সরাসরি দেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে একইসাথে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে, যা কৃষি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগৃহীত এই প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো যেন পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাথে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

জেলা প্রশাসক জানান, তরুণদের গড়ার পেছনে মুনাফা নয়, বরং একে একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আপাতত এই সুবিধার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবে। উদ্বোধনী দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি উপহার হিসেবে গাছের চারা পেয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোকেও তরুণদের জন্য এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন