জ্বালানি সংকটে পোশাক শিল্প: রপ্তানি অর্ডার হারানোর ঝুঁকিতে খাত

প্রকাশ:

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে দেশের সিংহভাগ পোশাক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। এই জ্বালানি সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তীব্রতর হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং পোশাক শিল্পকে হরতালমুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রতিনিধিরা জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং মজুরি সমন্বয়ের ফলে গত তিন বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগে মন্দা দেখা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। এর ফলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান মেরুদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই সাময়িক প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিল্পের টেকসই বিকাশে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নীতিগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংকট উত্তরণে বিজিএমইএ ৬টি মূল সুপারিশ করেছে। এগুলো হচ্ছে- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত ২টি এফএসআরইউ স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও আমদানি পর্যায়ে সকল শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (১৫০-৫০০ কেজি বয়লার বিশিষ্ট) কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, বিমানবন্দরে কার্গো শেড নির্মাণ, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঋণের সুদহার কমানো, বিশেষায়িত ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ প্রণয়ন, জিটিএফ ও টিডিএফ তহবিলে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অন্যান্য দেশে পিটিএ ও ইপিএ সম্পাদনে কূটনৈতিক প্রয়াস জোরদার করার সুপারিশ করেছে বিজিএমইএ। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণে গাজীপুরে হাসপাতাল নির্মাণ ও জমি বরাদ্দ এবং ঝুট ব্যবসার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন