মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই—এই পাঁচ মাসে বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করায় বিপিসির লোকসান দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. মনজুর আলম প্রধান জানিয়েছেন, তেল আমদানিতে লোকসান এবং বর্তমান আর্থিক সংকটের পুরো চিত্র ইতিমধ্যে জ্বালানি বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম যদি না কমে, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে গড়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৭২ টাকা ৫৪ পয়সা, অকটেন ১৪৬ টাকা এবং পেট্রোল ১৪২ টাকায় কিনতে হতে পারে। এই হিসাব অনুযায়ী, কেবল ডিজেলের ক্ষেত্রেই প্রতি লিটারে ৫৭ টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। এর ফলে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে জ্বালানি বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল, মেরিন ফুয়েল, এএলসি, মারবান এবং এলপিজি মিলিয়ে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। এছাড়া অক্টোবরে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টনের জন্য ৮ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং নভেম্বরে ৭ লাখ ৮০ হাজার টনের জন্য ১১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ আগামী তিন মাসে মোট ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার জ্বালানি বিল পরিশোধ করতে হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মুনাফা থেকে বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা জমা ছিল। এর মধ্যে সরকার ১১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তবে যুদ্ধের চাপে সেই জমানো অর্থও শেষ হওয়ার পথে। বিপিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের সরকার বিপিসির কাছ থেকে যে ১১ হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল, তা ফিরিয়ে দিলে সংস্থাটি কোনোভাবে টিকে থাকতে পারবে এবং তেল আমদানির সক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। নতুবা সামনে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এপ্রিলে বিপিসি প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা ৯০ পয়সা আমদানি শুল্ক দিয়েছে, যার মধ্যে ৮ দশমিক ৯৭ টাকা শুল্ক, ২৩ দশমিক ৭৭ টাকা ভ্যাট, ৩ দশমিক ১৭ টাকা এটি এবং ২ দশমিক ৯৯ টাকা এআইটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।





