যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি মিডল স্কুলের সাবেক শিক্ষিকা অ্যালিসন হ্যাভেম্যান-নিডরাখকে তার এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের দায়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী দুই সন্তানের মা অ্যালিসন ফ্রিহোল্ড ইন্টারমিডিয়েট স্কুলের বিশেষ শিক্ষা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ২৮শে আগস্ট জ্যাকসন টাউনশিপের এই বাসিন্দার সাজা ঘোষণা করা হয়। মনমাউথ কাউন্টির প্রসিকিউটর রেমন্ড এস. সান্তিয়াগো ৩১শে আগস্ট এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০২৩ সালের শরতে অ্যালিসন ওই কিশোরকে প্রলুব্ধ বা 'গ্রুমিং' করা শুরু করেন। তিনি ছাত্রটির খেলাধুলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন এবং তাকে নানা উপহার দিতেন, যার মধ্যে একটি যৌন খেলনাও ছিল। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ওই শিক্ষিকা এবং ছাত্রের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার টেক্সট বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে এই যৌন নিপীড়নের ঘটনা চলে। শিক্ষার্থীটি পুলিশকে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন হোটেল এবং শিক্ষিকার বাড়িতে দেখা করত।
আদালতে সহকারী প্রসিকিউটর ড্যানিয়েল জানজুক্কি জানান, স্কুলের অন্য একজন শিক্ষক হ্যাভেম্যান-নিডরাখকে ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক স্পর্শ করতে এবং অশালীন কথাবার্তা বলতে দেখেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল ২০২৪ সালের জুনে পুলিশকে অবহিত করেন। এর আগে ছাত্রটির মা কর্তৃপক্ষকে জানান যে, তিনি তার ছেলের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং তার মেয়ে তাকে শিক্ষিকার গাড়িতে ভাইকে দেখার কথা জানিয়েছিল।
সাজা ঘোষণার শুনানিতে বিচারক জিল জি. ও’ম্যালি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তুমিই তার ট্রমা। তুমি তাকে ধ্বংস করে দিয়েছ।" বিচারক জানান, এই ঘটনার ফলে ওই কিশোর ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিল। ভুক্তভোগী ছাত্রটি আদালতে জানায়, ঘটনার কথা অন্য শিক্ষার্থীরা জেনে যাওয়ায় সে সমালোচনার শিকার হচ্ছে এবং পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। সে আরও বলে, দুই-তিন বছর ধরে সে মনে করত এটি তার নিজেরই দোষ ছিল। তবে সে আদালতে ওই শিক্ষিকাকে ক্ষমা করে দেয়, যা শুনে হ্যাভেম্যান-নিডরাখ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
হ্যাভেম্যান-নিডরাখ প্রথম ডিগ্রির গুরুতর যৌন নিপীড়ন এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে কারাদণ্ডের মেয়াদের কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ সময় কারাগারে কাটাতে হবে, এরপরই প্যারোলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।





