ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

প্রকাশ:

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলে তার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আদালতে বিদিশার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। অন্যদিকে, বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। বিদিশা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরের দিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালে মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী গুলশান থানায় এই প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা বাদীকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং তা বিক্রির প্রস্তাব দেন। ফ্ল্যাটটি বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর অফিসে ডেকে নিয়ে তার মনোনীত ব্যক্তি আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন, যা বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন।

চুক্তি অনুযায়ী ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি। বাদী টাকা ফেরত চাইলে বিদিশা ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন, যা ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বাদীর অভিযোগ, বিদিশা টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই দেননি, বরং উল্টো তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন