টাঙ্গাইলে নারী সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় চার দিনেও মেলেনি বিচার

প্রকাশ:

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সদস্য ও নারী সাংবাদিক রুমি আক্তার পলিকে অশালীন ও মানহানিকর কথা বলে হেনস্তার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার চার দিন অতিবাহিত হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। গত ২৪ আগস্ট পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় অলোক কুমার দাস নামের এক সদস্য তার উপস্থিতিতেই অশালীন মন্তব্য করেন। রুমি আক্তার পলি গ্লোবাল টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি এবং ডেইলি বাংলাদেশ ও দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে তিনি ধৈর্য সহকারে বিষয়টি সামাল দেন এবং ওই রাতেই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন। পরদিন ২৫ আগস্ট তিনি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

পলি অভিযোগ করেন, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই লাবু খন্দকার নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ছবি ব্যবহার করে অশালীন মন্তব্যসহ পোস্ট দিচ্ছেন। তার দাবি, অলোক কুমার দাসের নির্দেশেই এসব পোস্ট করা হচ্ছে, কারণ লাবু খন্দকার তার পোস্টে অলোক কুমার দাসকে সমর্থন করে মন্তব্য করছেন এবং অলোক কুমার দাস নিজেও সেসব পোস্টে লাইক দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। রুমি আক্তার পলি জানান, লাবু খন্দকারের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই এবং তিনি তাকে চেনেন না। ঘটনার প্রতিবাদ জানানোয় তার চাচা এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মহব্বত হোসেনকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ আগস্ট রুমি আক্তার পলি টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি একজন নারী সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এমন হেনস্তা এবং অভিযোগের পরও অপপ্রচার অব্যাহত থাকাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মাওলা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার এ বিষয়ে আলোচনার জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা ডাকা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ওই সভায় বিষয়টি সমাধান হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অলোক কুমার দাসের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী সাংবাদিক নাহার চাকলাদার ও গ্রীন টেলিভিশনের এক প্রতিনিধিসহ অন্যান্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্ন রয়েছে।

শেয়ার করুন