গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার

প্রকাশ:

বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্টতম অপরাধ হিসেবে পরিচিত গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমনে এ ধরনের নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ অবলম্বন করেছিল। তিনি জানান, সেই সময় গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিতি পায়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব উদ্বৃত করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম বা অপহরণের মতো অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

তারেক রহমান বলেন, গুম শুধু একটি সংখ্যা বা ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও কোনো খোঁজ মেলেনি।

আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’। তিনি এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন