ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করলেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ, দিলেন ব্যাখ্যাও

প্রকাশ:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা‌তে ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানু‌ষের স‌ঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি সৃ‌ষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন, যা তাদের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি আরও জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছিল, বাস্তব চিত্র তার থেকে ভিন্ন ছিল। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল, তাই শিক্ষার্থীরা শব্দ কমাতে অনুরোধ করেছিল। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তিনি স্পষ্ট করেন, গণমাধ্যম ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেও ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটি পরিষ্কার যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি, তারা কেবল শব্দ কমাতে বলেছিল। এর অর্থ এই নয় যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে নিয়ে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের ছোট করা হয়েছিল বলে হাসনাত আব্দুল্লাহ মন্তব্য করেন।

নৌকাবাইচ প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ত্রুটির কথাও স্বীকার করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুলবশত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এই ত্রুটির কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত এবং এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে সংসদে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমের উপস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ পাননি।

সবশেষে, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার এবং তার দলের ‘জুলাই আদর্শে’র প্রতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তারা সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত এই আদর্শের উপর নির্ভর করেই নিতে চান। জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ কারো মত বা দৃষ্টিভঙ্গি আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেবে না। বিতর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করবে না তার মতামতকে একমাত্র গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করতে। জুলাই এই ‘কমন মিনিমাম গ্রাউন্ড’-এর ঐক্যের প্রতীক।

তিনি এই আদর্শের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। তার বিশ্বাস, যদি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো ওপর জোর খাটায়, কাউকে নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে বাধ্য করে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা এবং সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। যখন সরকার সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে বা অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি সংসদে এই কথাটাই বলতে চেয়েছিলেন যে, এই বাংলাদেশ সবার। এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সকল ধর্ম ও মতের মিলনস্থল এই বাংলাদেশ। যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কিছু করতে না পারে।

তিনি আরও লিখেন, বর্তমানে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না এবং তার ফলে সমতার যে বাংলাদেশ তারা গড়তে চাচ্ছেন, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের আন্দোলন। জুলাই ছিল মানুষকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন, সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন, যা বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে। হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, তাদের চেষ্টা সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য এবং সে চেষ্টাই তারা করছেন ও করে যাবেন।

শেয়ার করুন