সরকারের ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞের ১০ দিক তুলে ধরলেন মাহ্‌দী আমিন

প্রকাশ:

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের বহুমুখী কর্মযজ্ঞ ও সাফল্যের ১০টি দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর পরিচালনায় আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সভায় মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিগত ছয় মাসে সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দেশের মানুষ এখন নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যার ফলে বর্তমান সরকারের ক্ষমতার উৎস এখন সরাসরি জনগণ।

বিএনপি ও জনগণের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করে দলের প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা। সরকারের প্রতিটি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে মানুষের এই অংশগ্রহণ সরকারের দায়বদ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাহ্‌দী আমিন আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমেও প্রাণবন্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশসহ শতাধিক আইন সংসদে পাস করা হয়েছে।

সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার আলোকে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রায় ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবারকে সরাসরি উপকৃত করেছে। এছাড়াও কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানি প্রদানসহ বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন