বলিউডের রূপালি পর্দায় আইটেম গানের রানী হিসেবে পরিচিত মালাইকা অরোরা আজ ২৩ অক্টোবর ৫৩ বছরে পা দিলেন। সময়ের সাথে সাথে অভিনয় জগতের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসেও তিনি বিনোদন দুনিয়ায় নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। নাচের মঞ্চ থেকে শুরু করে টেলিভিশন সঞ্চালনা—সব মাধ্যমেই তাঁর সরব উপস্থিতি ভক্তদের নজর কাড়ে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরচর্চার অভ্যাস ধরে রাখার কারণেই ফিটনেসপ্রেমীদের কাছে তিনি পরিচিত একটি নাম। একের পর এক প্রেমের গুজব, মালাইকা বললেন।
মালাইকার তারকাখ্যাতির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে মণি রত্নম পরিচালিত ‘দিল সে’ ছবির মাধ্যমে। এই সিনেমার ‘ছাইয়াঁ ছাইয়াঁ’ গানে শাহরুখ খানের সাথে ট্রেনের ছাদে তাঁর পারফরম্যান্স বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে আজও বিবেচিত হয়। এরপর একে একে ‘কাঁটে’ ছবির ‘মাহি ভে’, ‘ওয়েলকাম’ ছবির ‘হোঠ রসিলে’, ‘দাবাং’ ছবির ‘মুন্নি বদনাম হুই’ এবং ‘হাউসফুল ২’ ছবির ‘আনারকলি ডিসকো চালি’-এর মতো গানে তাঁর আবেদনময়ী উপস্থিতি দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুন্নি বদনাম হুই’ গানটি তাঁকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যায়।
চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় না করলেও মালাইকা নিজের কর্মপরিধিকে বিস্তৃত করেছেন বিভিন্ন রিয়েলিটি শো এবং ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে। ‘নাচ বালিয়ে’ বা ‘ঝলক দিখলা যা’র মতো জনপ্রিয় নাচের অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করে তিনি টেলিভিশনের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তবু অন্য অনেক তারকার চেয়ে তিনি কম জনপ্রিয় নন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি প্রকাশের পর সম্পর্কটি নিয়ে জল্পনা বাড়ে।
২০২২ সালে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক নিয়ে নির্মিত হয় ‘মুভিং ইন উইথ মালাইকা’।
এছাড়া মুম্বাইয়ে ছেলে আরহান খানের সঙ্গে রেস্তোরাঁ ব্যবসা ‘স্কারলেট হাউস’ পরিচালনা করছেন তিনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দ্য প্রিন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মডেলিং, অভিনয় ও ব্যবসার সমন্বয়েই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে চান। পরের বছর, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ৫২ বছর বয়সেও বিশেষ গানে নাচতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন তিনি।
বয়স নিয়ে ট্রল বা সমালোচনার তোয়াক্কা না করে মালাইকা নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেকে ফিট রেখেছেন। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিয়মিত জিমে ব্যায়াম ও যোগব্যায়ামের ছবি শেয়ার করেন, যা তাঁর বয়সকে হার মানানো সৌন্দর্যের অন্যতম রহস্য। ২০২৫ সালে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপনের ছবি পোস্ট করে তিনি বয়স নিয়ে চলমান সকল জল্পনার ইতি টানেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নাচ তাঁর আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম এবং এ নিয়ে কারো কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৫৩ বছর বয়সেও তিনি সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত এক চরিত্র। মালাইকার কাছে ফিটনেস কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ারও অংশ। ২০২৫ সালে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদ্যাপনের ছবি প্রকাশ করে বয়স নিয়ে চলা জল্পনার অবসান ঘটান। কিন্তু এসব সমালোচনার কারণে নিজের পছন্দের কাজ থেকে সরে আসার পক্ষপাতী নন তিনি।
মালাইকার ব্যক্তিগত জীবনও বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২০১৬ সালে তিনি আরবাজ খানের সঙ্গে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০১৭ সালে তাঁদের চূড়ান্ত বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে ২০২৪ সালে অর্জুন কাপুর নিজেকে জনসমক্ষে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিলে তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন জোরালো হয়। সেটা কখনো ফিটনেস নিয়ে, কখনো আবার সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে। সিনেমা না করেও কীভাবে টিকে আছেন আলোচনায় মালাইকার ক্যারিয়ারের বিশেষত্ব হলো, তিনি একটি পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বয়সের সঙ্গে শরীরের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সে আলোচনায়ও বারবার উঠে আসে তাঁর নাম। দীর্ঘ দাম্পত্যের পর ২০১৬ সালে তাঁরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে দুজনের সম্পর্ক প্রকাশ্যেই পরিচিতি পায়।
সম্পর্ক ও পোশাক নিয়ে সমাজের বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মালাইকা বরাবরই সরব। ২০২৫ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, পোশাক এবং সম্পর্ক নিয়ে তাঁকে বিচার করা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তিনি বুঝতে পেরেছেন, অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্লান্ত হওয়ার চেয়ে নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকা বেশি স্বস্তিদায়ক। অনুষ্ঠানটি তাঁকে পর্দার বাইরের মালাইকা হিসেবে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার সুযোগ দেয়।
শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের কাজের প্রতিই মনোযোগী থাকতে চান। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাচের মতো শিল্পমাধ্যম নিয়ে দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্যের ভয়ে তিনি নিজের পরিচয় বা সত্তা বিসর্জন দিতে রাজি নন। সমালোচকদের মন্তব্যের চেয়ে নিজের কাজের তৃপ্তিই তাঁর কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।





