২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিঙ্গুরে শিল্প ফিরবে, অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:

দুই দশক আগে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুর রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় পর সেই সিঙ্গুর নিয়ে এবার নতুন আশার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গুরের সেই বিতর্কিত জমিতে শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছে তার সরকার। সেখানে ভারী বাণিজ্যিক যানবাহন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টাটা ন্যানো প্রকল্পের জন্য যে জমি ব্যবহৃত হয়েছিল, সেখানে সরকার নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হলেও সরকার শুধুমাত্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরের কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে টাটা মোটরসের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল। টাটারা সেখানে তাদের সাশ্রয়ী গাড়ি ‘ন্যানো’ তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তবে সেই কারখানা থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই ব্যাপক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই আন্দোলন বামফ্রন্ট সরকারের পতনে বড় ভূমিকা রাখে। তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, ওই প্রকল্পটি বহু-ফসলি উর্বর কৃষিজমি নষ্ট করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তীব্র আন্দোলনের মুখে টাটা গ্রুপ প্রকল্পটি গুজরাটে সরিয়ে নেয়। গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকল্পটিকে নিজের ব্যবসাবান্ধব নীতির সাফল্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে তার জাতীয় রাজনীতিতে উত্থানের অন্যতম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই কারখানায় উৎপাদন শুরুর আগেই এমন এক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল যে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যান্দেপাধ্যায়কে বামফ্রন্ট শাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকতে সাহায্য করেছিল।

শেয়ার করুন