২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে গাদি আইজেনকটকে ৬৭ এমপির সমর্থন

প্রকাশ:

ইসরাইলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন গাদি আইজেনকট। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ৬৭ জনই তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আলোচনার পর এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৈঠকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ৪৬ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। যদিও এই ব্যবধান বেশ স্পষ্ট, তবুও সরকার গঠনের ম্যান্ডেট প্রদানের আগে প্রেসিডেন্ট হারজগ সব দলের নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী রোববার তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ২০১৫ সালের পর কোনো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এটিই সর্বোচ্চ সমর্থন উল্লেখ করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেসেটের ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষারই একটি শক্তিশালী প্রতিফলন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়ার পরও সরকার গঠনের পথটি এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত বিভেদ রয়েছে। মূলত নেতানিয়াহুবিরোধী ৪৮ সদস্যের চারটি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন জোট এবং ১৯ সদস্যের দুটি আরব-নেতৃত্বাধীন জোট তাকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সরকার গঠনে অংশ নিতে অনাগ্রহী। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৬৭ জনের সমর্থনকে তারা জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। গত মাসের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিদায়ী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে।

তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে চ্যানেল ১২ নিউজের একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদর লিবারম্যান হারেদি দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার দীর্ঘদিনের আপত্তি শিথিল করেছেন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোই বর্তমানে তার প্রধান লক্ষ্য। লিবারম্যান মনে করছেন, আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করার চেয়ে হারেদি দলগুলোর সাথে জোট করা অধিক কার্যকর। এমনটি ঘটলে আইজেনকট ও লিবারম্যানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগির সমঝোতা হতে পারে। এছাড়া সাত আসনের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) নেতানিয়াহুকে সুপারিশ না করায় ভবিষ্যতে আইজেনকট নেতৃত্বাধীন সরকারে তাদের সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে লিকুদ পার্টির বর্তমান স্পিকারকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হতে পারে।

নতুন পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পার্লামেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা অপরিসীম। বৃহস্পতিবার আরব দল রা’আম আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়াশার, জয়েন্ট লিস্ট, ইসরাইল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসের সঙ্গে মিলে স্পিকার পদে আগাম ভোটাভুটির দাবিতে যোগ দিয়েছে। বর্তমান স্পিকার আমির ওহানা জানিয়েছেন, অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য আবেদন করেন, তবেই এ বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করা হবে। নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি তাই পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন তীব্র দর-কষাকষি চলছে।

শেয়ার করুন