২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের নতুন প্রস্তাব

প্রকাশ:

কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেননি।

এর আগে রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানান, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য তেহরান সাতটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে।

প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। তেহরানের সাফ কথা, এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না এবং কোনো আলোচনায় বসার প্রশ্নই আসে না।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাল্টা বার্তায় জানানো হয়েছে, কোনো শর্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, বরং প্রাথমিক আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত নতুন রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানও। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হলে আরও ব্যাপক পরিসরে হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তারা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরে লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।

তেহরান এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাতের ফলে এই উত্তাপ আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি এ সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে ইয়েমেনেও।

শেয়ার করুন