২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা

প্রকাশ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্তত চার থেকে পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রুবিও প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নাম উঠে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই প্রশাসন ছাড়ার এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ দেশটির তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে রুবিও ভালো ধারণা তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার মতে, রুবিও প্রশাসনে বেশি দিন থাকবেন, এমনটা মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনের অভিযোগে ছোট নৌযানে মার্কিন হামলা এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সূত্রের তথ্যমতে, ইরান যুদ্ধের দায়ভার থেকে নিজেকে আড়াল করা এবং এর ব্যর্থতার দায় সরাসরি ট্রাম্পের ওপর চাপানোর কৌশল হিসেবে রুবিও পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বর্তমানে রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে থাকলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা কার্যত অসম্ভব। তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠতা তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা মনে করছেন। উল্লেখ্য, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরাজয়ের পর জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবেই মন্তব্য করেছেন যে, এই পরাজয়ের মূল কারণ ইরান যুদ্ধ, যা প্রেসিডেন্ট নিজেও স্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রুবিওর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তার কর্মদক্ষতার প্রশংসা করলেও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তাকে কোণঠাসা করে রাখার বিষয়টির দিকে নজর দিচ্ছেন। যদিও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় রুবিও বর্তমানে অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। হেনরি কিসিঞ্জারের পর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। একসময়ের ‘লিটল মার্কো’ সম্বোধনকারী ট্রাম্পের সাথে বর্তমানে তার সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ, তবুও লাতিন আমেরিকা নীতি বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তার ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা রয়ে গেছে।

তবে এই গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রুবিওর পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। বরং রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে প্রশাসনকে স্থিতিশীল রাখতে তিনি নিজ দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন। গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে রুবিও নিজে জানিয়েছিলেন যে, তিনি আপাতত প্রশাসনের কাজে পুরোপুরি মনোযোগী। তবে ভ্যান্স যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে রুবিও সরে দাঁড়াতে পারেন বলেও তার ঘনিষ্ঠরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত সবকিছু মিলিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট।

শেয়ার করুন