ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় মেট্রোরেল প্রকল্পের মোট আটটি ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি সরাসরি অনুমোদন করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই প্রস্তাব জমা দেয়।
অনুমোদিত পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, লাইন-১ প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের জন্য মোট ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের তুলনায় ভ্যাট ও কর বাদে ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি। তাদের দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর বাদে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
প্রকল্পের লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো যেমন—ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ও টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ রয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগে এই কাজটি বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া সিপি-০৬ প্যাকেজে বিমানবন্দর থেকে খেলক্ষেত পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ এবং তিনটি স্টেশন নির্মাণের জন্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে, যা নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। কারিগরিভাবে সব প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। এতে দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে—বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। এর আওতায় ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগব্যবস্থা থাকবে।
সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার কার্যাদেশ লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সিপি-১০ প্যাকেজে সংকেত ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা স্থাপনে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা ব্যয় হবে, যা বাস্তবায়ন করবে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড। টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফটও নির্মাণ করা হবে। সিপি-০৯ প্যাকেজে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ ট্র্যাক নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ এবং পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই কাজটি সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হবে। এছাড়াও সুপারিশকৃত প্যাকেজগুলোর মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-০৪ প্যাকেজে ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা এবং সিপি-০৭ প্যাকেজে ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপো নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা বরাদ্দের সুপারিশ এসেছে, যা কনকর্ড প্রগতি ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে।
উল্লেখ্য যে, লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত রূপ গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছিল। ডিএমটিসিএল-এর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সরকার ও জাইকা যৌথভাবে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।





