১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন বকেয়া রেখেই খুলনায় ৩০ কর্মীকে অব্যাহতি, হাসপাতালের সেবা ব্যাহত

প্রকাশ:

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৩০ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে একযোগে চাকরি থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার পরও পাওনা পরিশোধ না করেই তাদের ছাঁটাই করার ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ১ নভেম্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে তারা বকেয়া বেতন পরিশোধ ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং জনবলের প্রায় ১৫ মাসের বেতন – ভাতা বকেয়া রয়েছে।

কর্মীদের অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাকদির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইখতিয়ার উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কর্মীদের রাখার শর্ত ছিল। বর্তমান সিভিল সার্জন সেই চুক্তি উপেক্ষা করে তাদের ছাঁটাই করেছেন এবং এর পেছনে ঘুষ গ্রহণের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারের সাথে তার কথা হয়নি এবং ঘুষ দাবির বিষয়টি ভিত্তিহীন।

তিনি জানান, বেতন-ভাতা পরিশোধের অনিশ্চয়তা এড়াতেই কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তাদের পুনর্বহাল করা হবে। ২৬ অক্টোবরের এক চিঠিতে তিনি জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নিয়মিত বেতন পরিশোধের শর্ত না মানায় রাজস্ব খাতের জনবল দিয়ে সেবা পরিচালনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সিভিল সার্জনের আদেশে কর্মীদের অব্যাহতি দেওয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, আউটসোর্সিং কর্মীদের এক বছরের বেতন-ভাতার অর্থ ইতিমধ্যে আইবাস (iBAS) সিস্টেমে চলে এসেছে। রাজস্ব খাতে জনবল সংকটের কারণে একসঙ্গে এত কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ায় রোগীদের সেবা প্রদানে সংকট দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অভাবে ওয়ার্ড ও বারান্দায় ময়লার স্তূপ জমেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীরা নাক ঢেকে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করার পর বেতন না পাওয়ার দায় কোনোভাবেই তাদের ওপর বর্তায় না। তাদের দাবি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবে এক বছরের বেতন জমা হওয়া সত্ত্বেও কোনো এক রহস্যময় কারণে অর্থ ছাড় হচ্ছে না। পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে যে রোগীদের কেউ কেউ কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. মাসুদুর রহমান, মো. আফজাল হোসেন, আবদুর রউফ, মো. আহম্মেদ মোস্তজা, আনিসুজ্জামান টুটুল, আবদুল কাদের ও মো. আশিকুর রহমানসহ ভুক্তভোগী কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকা কর্মীরা দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ চাকরিতে ফেরার দাবিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

শেয়ার করুন