যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে একটি ব্যবসায়িক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিমানে থাকা নয়জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ঘটা এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি। তিনি এক্স-এ এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তবে এতে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
লিয়ারজেট ৬০ মডেলের ব্যক্তিমালিকানাধীন উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
অস্টিন বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাত চলছিল, যার কারণে জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ সোমবার বিকেল পর্যন্ত সতর্কবার্তা জারি রেখেছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যানুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমা ও বৃষ্টির সমস্যার কথা জানান। তারা আরও দুই হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুমতির আবেদন করেছিলেন। পাইলটের ভাষ্যমতে, বিমানটিতে হালকা স্বচ্ছ বরফ জমছিল এবং মাঝেমধ্যে ৭০০ ফুট পর্যন্ত ঝাঁকুনি অনুভূত হচ্ছিল। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের রেকর্ড এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) উচ্চতায় পূর্বদিকে যাচ্ছিল। এ সময় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমা ও বৃষ্টিপাতের কথা জানান এবং আরও দুই হাজার ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) ওপরে ওঠার অনুমতি চান। এতে বিমানটির গতি নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায় বলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেকর্ড ও ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে পাইলট বিমানের গায়ে বরফ জমার পাশাপাশি প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কথা জানিয়েছিলেন। পাইলট জানান, ঝাঁকুনির কারণে উড়োজাহাজটি ৭০০ ফুট (প্রায় ২১৩ মিটার) পর্যন্ত ওঠানামা করছিল।
একপর্যায়ে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে এবং উড়োজাহাজটি খাড়া নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট এবং শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজার ফুট গতিতে বিমানটি নিচে নামছিল। নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে শেষ কথোপকথনে পাইলট বিপৎসংকেত হিসেবে ‘মেডে’ শব্দ উচ্চারণ করেন এবং জানান যে, বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নিজেদের আসন্ন বিপর্যয়ের কথা জানিয়ে পাইলট সবশেষে বলেছিলেন, আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি। এরপরই বিমানটি সড়কের পাশে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিমানটি আকাশ থেকে খাড়া নিচে নেমে আসার ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছেন। দুর্ঘটনাস্থলে তৈরি হওয়া গর্ত ও ধ্বংসাবশেষের চারপাশে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা গেছে।
এই দুর্ঘটনার পর পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত সড়কটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ কিংবা উড়োজাহাজে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। এদিকে দুর্ঘটনার পর আশপাশের একটি মোবাইল হোম আবাসন এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।





