১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু: উদ্ধার হওয়া চিঠিতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রকাশ:

পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার ১ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড়সাহাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত হৃদয় প্রামাণিক সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর মধ্যপাড়া এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়াকে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ছবি মন্ডলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিন দিন আগে স্ত্রী সুমাইয়া তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে বাবার বাড়িতে চলে যান। তবে জন্মের কয়েক দিন পর নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী সুমাইয়ার সঙ্গে ঝগড়ার পর গত তিনদিন ধরে হৃদয় ওই বাসায় একাই বসবাস করছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় বাড়ির মালিক হৃদয়ের কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁর পরিবারকে খবর দেন। পরে হৃদয়ের মা ও স্থানীয়রা এসে দরজা ভেঙে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ির মালিক হৃদয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। মরদেহের পাশ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে।

ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করেছে। চিঠিতে হৃদয় প্রামাণিক উল্লেখ করেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী সুমাইয়া, আমার ছেলেকে মারছে শরীফ, আমার জন্য দোয়া করবেন।’ স্থানীয় ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, চিঠিতে উল্লিখিত শরীফ হৃদয়ের স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক মাস আগে সুমাইয়ার জন্ম দেওয়া নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে, চিঠিতে সুমাইয়া ও শরীফের নাম উল্লেখ থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে এবং চিঠিতে থাকা নামগুলো নিয়ে কাজ করছেন আইনশৃঙ্গলা বাহিনীর সদস্যরা।

শেয়ার করুন