তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সচিবালয়ে এই বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একইসঙ্গে শিল্প খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে পোশাকশিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতের এই বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ অবদান রয়েছে। বর্তমান সরকার এই শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের নিয়ম রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সরকার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা দেরি হলেও, নাম পাওয়ার পর পরই আজ সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই বোর্ডের মাধ্যমেই শ্রমিকদের সম্মানজনক জীবনযাপন ও আর্থিক বিষয়াদি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সহিংস আন্দোলনের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কাম্য নয়। আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় নাশকতার মতো ঘটনাগুলো কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উসকানিদাতারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে তাদের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সহিংসতায় জড়িত হবে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে কিংবা অযথা বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।
গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্তের ওপার থেকে একটি গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উসকানি দিচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা এবং উৎপাদন খাতকে বাধাগ্রস্ত করা। তবে সরকার এই অপতৎপরতা রুখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ এবং উসকানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছে। রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং রপ্তানি পণ্য সময়মতো সরবরাহের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানযোগ্য। কোনো কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়।
উল্লেখ্য, এই পর্যালোচনা বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।





