১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেট ফুয়েলের দাম বাড়লেও ভাড়া না বাড়ানোর ঘোষণা কাতার

প্রকাশ:

প্রিমিয়াম জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১৮২ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির পরেও যাত্রীদের টিকিটের ওপর বাড়তি ভাড়ার বোঝা চাপাবে না কাতার এয়ারওয়েজ। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়ে এয়ারলাইনসটির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী হামাদ আলী আল খাতের এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়াই পরিচালন দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠাই তাদের লক্ষ্য।

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর দিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে লাভজনক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এই কৌশলের মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্লট এবং নিয়মিত যাত্রী সংখ্যা ধরে রেখে আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষজ্ঞ দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান হামাদ আলী আল খাতের।

আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রীদের চাহিদা এখনো বেশ স্থিতিশীল রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান নির্বাহী। তিনি জানান, যাত্রী চাহিদার ধরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী ভ্রমণের ৬০ দিনের মধ্যে টিকিট নিশ্চিত করছেন। যাত্রী চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে কাতার এয়ারওয়েজ। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা রুটগুলোতে আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সামগ্রিকভাবে, কাতার এয়ারওয়েজ জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচন ও ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ এবং যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের সেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোই এখন এয়ারলাইনসটির মূল অগ্রাধিকার।

শেয়ার করুন