জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চট্টগ্রামের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলো (আইসিডি) তাদের সেবামূল্য আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সর্বশেষ কার্যকর হারের ওপর ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে নতুন সারচার্জ আরোপ করেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বর্ধিত হার কার্যকর হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিকডার তথ্য অনুযায়ী, সরকার ওইদিন থেকেই ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা অর্থাৎ ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এই ব্যয় সমন্বয়ের লক্ষ্যেই নতুন সারচার্জ যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এবং পরবর্তীতে ১৯ এপ্রিল নতুন ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে এটি নিয়ে তিন দফায় অফডক চার্জ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটল।
নতুন এই বর্ধিত হারের আওতায় কনটেইনার পরিবহন, সিএফএস শেডে পণ্য আনা-নেওয়া, কনটেইনারে পণ্য ভর্তি, লোড ইয়ার্ডে রাখা এবং চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটি থেকে কনটেইনার স্থানান্তরের মতো বিভিন্ন সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের রপ্তানি পণ্যের শতভাগ এবং আমদানির ৬৮ ধরনের পণ্যের ডেলিভারি বেসরকারি এই আইসিডিগুলোর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
ব্যবসায়ীরা এই একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা যৌথ বৈঠক ছাড়াই হঠাৎ করে চার্জ বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, পোশাক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের টেকসই অগ্রগতির জন্য বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ চার্জ বৃদ্ধি লজিস্টিকস ব্যয় বাড়িয়ে দেবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে ফেলতে পারে।
বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার এ বিষয়ে জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে আইসিডিগুলোর পরিচালন ব্যয় সরাসরি বেড়েছে। ফলে ডিজেলনির্ভর সেবাগুলোর বিপরীতে এই অতিরিক্ত চার্জ আদায় করা ছাড়া তাদের কাছে বিকল্প ছিল না। সংগঠনটির দাবি, ২০২২ সাল থেকে গত চার বছরে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রভাব তাদের সামগ্রিক পরিচালন খরচে পড়ছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বার্থ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তবে তারা সরাসরি চার্জ বৃদ্ধির চেয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠায় বিকডা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ১৯ এপ্রিলও নতুন ট্যারিফ কার্যকর করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলোচনা ছাড়া এককভাবে চার্জ নির্ধারণ করা হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের মূল্যে রপ্তানি কার্যক্রম চলার মধ্যে হঠাৎ চার্জ বাড়লে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।





