৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরসিইপি জোটে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আরও এক ধাপ

প্রকাশ:

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। বাংলাদেশসহ নতুন চার দেশ ও অঞ্চলের জন্য একটি বিশেষ অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন জোটের সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ম্যানিলার ওই বৈঠকে আরসিইপি যৌথ কমিটির (আরজেসি) করা সুপারিশটি আনুষ্ঠানিক সম্মতি পায়। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্য যেসব দেশ ও অঞ্চল এই তালিকায় রয়েছে সেগুলো হলো লাতিন আমেরিকার চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং চীন নিয়ন্ত্রিত হংকং। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে জোটের প্রতিনিধিরা জানান, আরসিইপি সবসময়ই একটি উন্মুক্ত এবং সর্বজনীন কাঠামো বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জোটের বিস্তৃতি ঘটানো ও নতুন সদস্য যুক্ত করার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এই ওয়ার্কিং গ্রুপটি আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও কারিগরি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি আসিয়ান রাষ্ট্রসহ চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় শক্তিসমূহকে নিয়ে গঠিত এই বিশাল বাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক মাইলফলক। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে তা মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ ছাড়া রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে অংশগ্রহণ জোরদার এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) টানতে এই জোটে অন্তর্ভুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে নতুন করে সদস্য হতে চাওয়া দেশগুলোর আবেদনের অগ্রগতির ওপর আলোকপাত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা সরানো এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সংস্কার নিয়েও আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, নিবিড় সহযোগিতা এবং ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমেই একটি গতিশীল ও সুদূরপ্রসারী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ইউএনবি থেকে জানা যায়, এই যৌথ বৈঠকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি।

শেয়ার করুন