ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়কের বেহাল দশা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক দুর্বিষহ যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত, কাঁদা এবং ইটের খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে, যা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এই দুর্ভোগের কারণে নাসিরনগর সদরসহ অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, একজন স্থানীয় বাসিন্দা মাইকিং করে জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। এটি কেবল দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং উন্নয়নকাজের দীর্ঘসূত্রতার এক করুণ চিত্র।
প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ১৮ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরে এর কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। শুরুতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় দফায় ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। অথচ বিস্ময়করভাবে ইতিমধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং কাজের অগ্রগতি দেখানো হচ্ছে ৬৫ শতাংশ।
বিলম্বের কারণ হিসেবে ঠিকাদার বর্ষা ও বন বিভাগের গাছ কাটার জটিলতার কথা বলছেন। কিন্তু বর্ষা একটি নিয়মিত বিষয় এবং কাজের পরিকল্পনাতেই এটি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত ছিল। এছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অজুহাত দিয়ে বছরের পর বছর কাজ আটকে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের অভিযোগ রয়েছে যে, অর্থবছরের শেষে ঠিকাদার বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে বিল তুলে নেন। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে কাজের মান বা বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করেই কেন বিল অনুমোদন করা হলো, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে।
সড়কটির এই নাজুক অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াত ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজের একটি পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি নির্ধারণ করা এবং ইতিমধ্যে পরিশোধ করা অর্থের বিপরীতে কাজের মান স্বাধীনভাবে যাচাই করা। গাফিলতি প্রমাণিত হলে চুক্তির শর্তানুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং তদারকিতে দায়িত্বে অবহেলা করা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি শুধু অভিনব প্রতিবাদ নয়; দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও করুণ চিত্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পরও যখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না, তখন মানুষকে এভাবেই নিজের দুর্ভোগের কথা জানাতে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বর্ষা বাংলাদেশে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাজের সময়সূচি তৈরির সময় বর্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা।





