২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতার আমিরের হুশিয়ারি: উপসাগরীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো

প্রকাশ:

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও কাতার নিজস্ব রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানের সংহতির দৃঢ় প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানী দোহায় আয়োজিত কাতারের শূরা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।

সংকট ও যুদ্ধের প্রভাব

আমির জানান, কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাতার ও পুরো অঞ্চল এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের এই সময়ে ইরান একাধিকবার কাতারে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফান স্থাপনায় চালানো হামলা উল্লেখযোগ্য। আমির বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই নেওয়া দূরদর্শী নীতির কারণে কাতার এই অস্থিতিশীলতার পরিণতি মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে।

সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

  • উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
  • হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে তিনি সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
  • জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন আমির।
  • সংঘর্ষ বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আমির শেখ তামিম একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি কাতারের অবিচল সমর্থনের কথা আবারও তুলে ধরেন। আঞ্চলিক সংঘাতের এই সময়ে কাতারের এই বক্তব্য একদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে সংকট নিরসনে শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তাও দিয়েছে।

শেয়ার করুন