জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার নথি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, রোববার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শুনানির জন্য নতুন তারিখ হিসেবে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন। বর্তমানে জামিন প্রত্যাশী ওই তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত ৯ মাসের তদন্ত শেষে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন ৩০ জুন আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটিতে অভিযুক্তরা হলেন নিহত জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামক একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরদিন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জামিনের আবেদন নাকচ হওয়া তিন আসামি হলেন নিহত জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি আকস্মিক ছিল না। বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে এবং রেকি করার পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় বার্জিস শাবনাম বর্ষা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেন, মাহির রহমান সরাসরি হামলায় অংশ নেন এবং ফারদীন আহম্মেদ আয়লান তাকে সহায়তা করেন। এই তিনজনের বিরুদ্ধেই বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





