১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় উঠে এল সাফল্যের লড়াই

প্রকাশ:

বাড়ির আট কিলোমিটার দূরে স্কুলে যাওয়ার পথে নিয়মিত দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হতো নাহিয়ান আহমেদকে। স্কুল ও প্রাইভেট শেষে ঘরে ফিরে ক্লান্ত থাকলেও নিজের লক্ষ্য থেকে সে সরে আসেনি। এমনকি পরীক্ষার ঠিক আগে অসুস্থ হয়ে পড়লেও দমে যায়নি সে। তারাকান্দা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের এই শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে শিক্ষকেরা তাকে বিজ্ঞান বিভাগে নিতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগের সব বিষয়ে ভালো নম্বরসহ জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নাহিয়ান। শুক্রবার ময়মনসিংহের প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুলে আয়োজিত সংবর্ধনায় সে নিজের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে। স্কুল ও প্রাইভেট শেষে ক্লান্ত থাকলেও পড়তে বসলে সেই ক্লান্তি ভুলে যেত। পরীক্ষার কিছুদিন আগে অসুস্থও হয়ে পড়েছিল। শুধু তা–ই নয়, নিজের পছন্দের বিভাগ পেতেও বেগ পেতে হয়েছে। নাহিয়ানের কথায়, ‘নতুন কারিকুলামে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে ওঠার সময় আমি ইংরেজিতে ফেল করি। সব চড়াই-উতরাই পার করেই আমি এ পর্যন্ত এসেছি।’।

একই অনুষ্ঠানে রুবাইয়া রহমান তার জীবনের কঠিন সংগ্রামের কথা জানায়। ২০১৪ সালে প্লে-তে পড়ার সময় সে বাবাকে হারায়। এরপর টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে জেনুইন মডেল স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। রুবাইয়া বলে, সমাজের অনেকে মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করলেও সে সব প্রতিকূলতা জয় করেই আজকের এই অবস্থানে এসেছে। তার মতো অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখো ও আয়োজক। শ্যামগঞ্জের জেনুইন মডেল স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া রুবাইয়া রহমানের সংগ্রামটা ছিল অবশ্য অন্য রকম। ২০১৪ সালে যখন বাবা মারা যান, তখন সে প্লেতে পড়ে। রুবাইয়া বলল, ‘সমাজের অনেকেই বাধা দিতে চেয়েছে।

অনুষ্ঠানের ময়মনসিংহ পর্বের শুরু হয় সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা এবং মুখস্থ বিদ্যার বিরুদ্ধে শপথ পড়ান প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. চান মিঞা। স্বাগত বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সম্পাদক মতিউর রহমানের বার্তা পড়ে শোনান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. এখলাছ উদ্দিন খান বলেন, এসএসসি থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের হার কমে যায়, তাই এখন থেকেই কঠোর পরিশ্রম ও সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া নাছিমা আক্তার, নুরুন নাহার আক্তার এবং হেড অব ডিপ নিউজ রাজীব আহমেদ সাফল্যের জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহার, দক্ষতার উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও জ্ঞান অর্জনের পরামর্শ দেন। পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী মাহবুবা খাতুন, শিক্ষক মাহমুদা নাছরিন এবং অভিভাবক ফাহিমা ইসলামও অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

ভোর ৭টা ৫০ মিনিটে মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন শিক্ষার্থী প্রিন্স রহমান। দাদার নিয়মিত পড়ার অভ্যাসের সূত্র ধরে তার মধ্যে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। নান্দাইল পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী এরিন আলম, তাবাসসুম সাদিয়া, সামিহা জাহান, মাহিয়া আকন্দ, ফাহিমাতুল জান্নাত ও সামিয়া ইসলাম দীর্ঘদিন পর এই আয়োজনে একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। এছাড়া গৌরীপুরের হুমায়রা তাবাসসুমও তার প্রতিদিনের দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সংগ্রামের কথা জানায়।

তবে সংফরদনায় আসতে কিছুটা বিলম্বের শিকার হয় গফরগাঁওয়ের তাসফিয়া নওশিন। ট্রেন দেরিতে ছাড়ায় বাবা শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আকবর হোসেনের সঙ্গে দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে পৌঁছালেও, দেরিতে হলেও ক্রেস্ট পেয়ে সে খুশি ছিল। সাংস্কৃতিক পর্বে ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সদস্য এবং ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান শাওন পারফর্ম করেন। সবশেষে ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সভাপতি মেহেদি হাসান অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, এই আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা।

শেয়ার করুন