২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানদের বীরত্বে জয়ের দুয়ার থেকে ফিরল বাংলাদেশ

প্রকাশ:

শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টের শেষ দিনে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও হতাশ হতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আফগানিস্তান ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে খেলাটি ড্র করতে সক্ষম হয়েছে। জয়ের জন্য শেষ ২ উইকেট প্রয়োজন থাকলেও বাংলাদেশের বোলাররা শেষ সেশনে আর কোনো বাধা পেরোতে পারেননি। সেই সঙ্গে শেষ সেশনে লোয়ার-অর্ডারের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের মুখে জয়বঞ্চিত নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

ম্যাচের তৃতীয় সেশনে আফগানিস্তান যখন ৬ উইকেটে ২৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে, তখন সেদিকুল্লাহ অটল একাই বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকা এই ওপেনারকে শেষ পর্যন্ত সাজঘরে ফেরাতে সক্ষম হন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে ৩৩২ বলে ১১১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা অটলকে বিদায় করেন তিনি। এটিই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে টিকে ছিলেন সেদিকউল্লাহ আতাল। পরে দারুণ এক ডেলিভারিতে অবশেষে তাকে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

অটলের বিদায়ের পর ইয়ামিন আহমেদজাই এবং কাইস আহমেদ দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং চালিয়ে যান। এই জুটিকে ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় টাইগারদের; এর মধ্যে বাংলাদেশ কয়েকটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে এবং ক্যাচ মিসের ঘটনাও ঘটে। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ ইয়ামিন আহমেদজাইকে ৮৫ বলে ১৯ রানে আউট করলেও কাইস আহমেদকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। দিন শেষে কাইস ৮০ বলে ৪৯ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। পুরো ম্যাচে ১৪২ ওভার ব্যাটিং করেও আফগানদের অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশজয় বঞ্চিত হলো আফগান ওপেনার সিদিকুল্লাহ অটলের মহাকাব্যিক শতরানের ইনিংসের মাধ্যমে।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া তাইজুল ইসলাম এবং হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট লাভ করেন। পুরো টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। আফগান ব্যাটারদের শেষ মুহূর্তের এই অদম্য প্রতিরোধই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যায়।

শেয়ার করুন