২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তায় আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

প্রকাশ:

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আগ্রহের কথা জানায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেদারল্যান্ডসের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের এখনই উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেছেন নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র হওয়ায় অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ভূমি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সফলতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদীব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের পরিকল্পনার প্রশংসা করেন নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়। এ সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ বলেছে, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত।

দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এই বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমীন উপস্থিত ছিলেন। নেদারল্যান্ডস প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সেদেশের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন