২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যান সিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি স্টিভেন জেরার্ডের

প্রকাশ:

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন লিভারপুলের কিংবদন্তি অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পুরো ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জেরার্ড মনে করেন, ক্লাবটির বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। তিনি সিটির অর্জিত শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়া এবং তাদের ওপর বহুমুখী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরোপের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

জেরার্ডের মতে, সিটির সাফল্যে এক ধরণের দাগ লেগে থাকা উচিত, যাতে সবাই বুঝতে পারে এই জয়গুলো কী উপায়ে অর্জিত হয়েছে। তার পরামর্শ অনুযায়ী, শুধু জরিমানা নয় বরং পয়েন্ট কাটা, ট্রান্সফার ব্যান এবং অবনমনের মতো কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি এমনভাবে শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন যেন গত প্রায় এক দশকে ক্লাবটি প্রতিপক্ষ দল ও সমর্থকদের যে মানসিক কষ্ট দিয়েছে, তার প্রতিফলন শাস্তির মাধ্যমে ঘটে। জেরার্ড বলেন, বিগত ৯-১০ বছরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে সিটিকেও সেই ভোগান্তি পোহাতে হবে। সিটির কারণে অন্যান্য দল ও সমর্থকদের যে মানসিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তার প্রসঙ্গ টেনে জেরার্ড বলেন, ‘ওদের এমনভাবে শাস্তি দেয়া উচিত, যেন গত ৯-১০ বছর ধরে তারা বাকিদের যেভাবে ভুগিয়েছে, ঠিক তেমনি তারাও ভোগে।’।

২০১৩-১৪ মৌসুমে লিভারপুলের অধিনায়ক থাকাকালীন সিটির কাছেই লিগ শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার সেই আক্ষেপের কথা তার কথায় ফুটে ওঠে। তবে ব্যক্তিগত কোনো মেডেল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। জেরার্ড স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কেউ নন যিনি দাবি করবেন যে সিটির একটি শিরোপা তাকে দিয়ে দেওয়া হোক; কারণ সেই মেডেল কখনোই অর্জিত শিরোফার মতো অনুভূতি দেবে না। তিনি নিজের ক্যারিয়ারে প্রিমিয়ার লিগ না জেতার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।

শাস্তির ভয়ে সিটির অর্জনগুলো মুছে যাওয়ার যে আশঙ্কা সমর্থকরা করছেন, তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন জেরার্ড। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ওই ৯ বা ১০ বছর ধরে সিটির অনিয়মের কারণে যে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী তাদের আনন্দময় স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তার দায়ভার কে নেবে? ফুটবলীয় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ক্লাবটির বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুন