চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইবুনাল-৪ এর বিচারক মো. উজ্জল মাহ্মুদের এজলাস ও খাসকামরায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে একটি বিষ্ফোরক মামলার শুনানি চলাকালে আদালত কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে পুলিশ যুবদল নেতা তুফান আলীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তার মামলার শুনানির সময় আরও চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিচারকের একটি বিরূপ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিচারকের খাসকামরার দরজার কাঁচ ও এজলাসের জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া আরও চার নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর হলেও তুফান আলীর জামিনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না আসায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার জন্য বিচারককেই দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, বিচার চলাকালে একজন বিচারক সরকার বিরোধী বা বিচার বহির্ভূত বক্তব্য দিতে পারেন না। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি জানান, আদালতের কার্যতালিকার সঙ্গে নথির গরমিল থাকায় আগের ধার্য তারিখে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল। তার মতে, আদালতে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিচারকের মন্তব্য এবং ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি আবদুল ওদুদ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জড়িতদের বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারী হিসেবে অভিহিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব এটিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর হুমকি ও ‘মব কালচার’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য-সচিব বাবর আলী রুমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই বিচারককে অপসারণ করা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।





