উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা লুট: পাঁচ ডাকাত গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১২ লাখ

প্রকাশ:

রাজধানীর উত্তরার বিমানবন্দর সড়কে পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্যমতে, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা সবাই পেশাদার ডাকাত চক্রের সদস্য এবং সরাসরি ৮ থেকে ১০ জন এই লুটপাটে অংশ নিয়েছিল।

শুক্রবার রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন হলেন ইলিয়াস শিকদার, জাফর, মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল, মিন্টু রাড়ী ও সাগর বাড়ৈ। শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুটের ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া অভিযানে চারটি ৭ দশমিক ৬৫ মিমি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই সকালে ডিএল পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা একটি কাভার্ড ভ্যানে করে টাকা নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের একটি ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলে আটজনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে যে এ ঘটনায় আরও দুজন জড়িত ছিল। পুরো চক্রের সদস্য সংখ্যা ৮ থেকে ১০ জন হতে পারে। চক্রের মূল হোতা এখনও পলাতক থাকায় তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পের কোনো কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈ একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে সাগরকে পোস্তগোলা থেকে ৯ লাখ টাকা এবং রুবেলকে যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় থেকে ৩ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন