প্রায় দুই বছর ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে শান্ত পরিবেশ বজায় ছিল, সাম্প্রতিক সহিংসতায় তা এখন প্রশ্নের মুখে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে গত ৩ থেকে ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে রাজধানীসহ দেশের অন্তত ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এসব ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ অন্তত দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনাগুলোর মধ্যে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’-এর ছবি প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সাতজন আহত হন। গত সোমবার রাতে এই প্রদর্শনীতে হাসিনার আমলের দণ্ডিত জামায়াত ও বিএনপির সাবেক নেতাদের ছবি প্রদর্শনের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। একই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন দাবি নিয়ে সৃষ্ট বাগি¦তণ্ডা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল পর্যন্ত গড়ায়, যেখানে অন্তত ৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজেও বিভিন্ন ইস্যুতে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নোয়াখালীতে গণ-অভ্যুত্থানের আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও বাকযুদ্ধ হয়েছে।
ক্যাম্পাসে রড, লাঠি, পাইপ ও হেলমেট পরা সশস্ত্র মহড়া নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাইলাতুল জেরিন জানান, হাসপাতালের ভেতরে হামলার ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলেছে। আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রাত নামলেই তারা রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের খেসারত দিতে গিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব ও ইতিহাসের মালিকানা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে তীব্র দ্বিমত। দ্বিতীয়ত, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য এবং সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্রদলের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তৃতীয়ত, ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ এবং ছাত্রদলকে ‘পেশিশক্তি ব্যবহারের’ অভিযোগে একে অপরের প্রতি দোষারোপ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ জানান, পেশিশক্তি দিয়ে ক্যাম্পাস চালানোর চেষ্টা ভুল, কারণ বর্তমান শিক্ষার্থীরা ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি গ্রহণ করবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দলীয়করণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে এই সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন। তাদের মতে, প্রশাসন দলীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করায় শিক্ষাঙ্গন মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদল অছাত্রদের দিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের মতো হল ও ক্যাম্পাস দখলের হিংস্র চক্রান্তে লিপ্ত। শিক্ষাবিদরা অবিলম্বে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্বায়ত্তশাসিত ভূমিকা পালন ও বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হাসিনার আমলে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের নাম করে দণ্ডিত জামায়াত ও বিএনপির সাবেক নেতাদের ছবি টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিত
শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সহিংসতার পেছনে তিনটি মূল কারণ কাজ করছে। প্রথমত. ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব ও ইতিহাসের ওপর একক কর্তৃত্ব বা ‘মালিকানা’ দাবির ক্ষেত্রে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে তীব্র দ্বিমত সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়ত. ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ





