মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা মিমকয়েনের দাম ৯৭ শতাংশ কমে গেলেও লেনদেন ফি ও টোকেন বিক্রি থেকে তিনি শতকোটি ডলার আয় করেছেন। তবে, এর বিপরীতে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীকেই লোকসান গুনতে হয়েছে।
দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের নামে এই মিমকয়েন চালু করেন।
১৯৪৬ সালের ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করেন ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই ট্রাম্প মার্কিন সমাজে একজন ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শোবিজ নিয়ে। রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মতো না হলেও, ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি আচমকা প্রেসিডেন্ট পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তাঁর এই ঘোষণাকে শুরুতে অনেকেই গুরুত্ব দেননি এবং এ নিয়ে হাসিঠাট্টাও কম হয়নি। তবে ট্রাম্প তাঁর লক্ষ্যে স্থির ছিলেন এবং পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি সব ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন।
ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী এবং মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প ছিলেন চতুর্থ। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত স্বভাবের হওয়ায় তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমি স্কুলে পাঠানো হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি বাবার ব্যবসায় যোগ দেন এবং পৈতৃক ব্যবসার সম্প্রসারণ করেন। ধীরে ধীরে তিনি হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন ব্যবসা গড়ে তোলেন। ট্রাম্প দীর্ঘদিন মিস ইউনিভার্সের স্পনসর ছিলেন এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামের টিভি রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনা করে সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন। তিনি রেসলিং ম্যাচও উপস্থাপনা করেছেন।
ব্যবসায়িক জীবনে ট্রাম্প কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন এবং মামলা করার পাশাপাশি মামলার সম্মুখীনও হয়েছেন। তিনি তিনবার বিয়ে করেছেন এবং পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন চেক মডেল ইভানা, যাঁর সঙ্গে ১৯৯২ সালে বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসকে তিনি ১৯৯৩ সালে বিয়ে করেন এবং ১৯৯৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। ২০০৫ সালে তিনি মডেল মেলানিয়াকে তৃতীয়বার বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে ফার্স্ট লেডি।
রাজনৈতিক জীবনে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হিসেবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় জুড়েই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। রাশিয়া ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি প্রকাশ্যে নিজের অনুরাগের কথা জানান তিনি। অভিবাসী, মুসলমান, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগও ওঠে। এত কিছুর পরও তিনি ১৬ জন প্রার্থীকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন এবং হিলারিকে হারিয়ে আসল চমক দেখান।
ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্পকে জিতিয়ে দিতে রাশিয়া কলকাঠি নেড়েছে বলে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। ট্রাম্প সব সময় আলোচনায় থাকতে ভালোবাসেন এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তাঁর এই মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি। সময়-অসময়ে টুইটারে নানান টুইট করে তিনি সংবাদের শিরোনাম হন এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর লড়াই অনেকটা নিত্যদিনের ঘটনা। অবস্থা এমন যে, তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মুসলিম নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করে তিনি সমালোচিত হন। এসব আদেশ কখনো কখনো হোঁচট খেয়েছে এবং প্রশাসন চালাতে তাঁকে গলদঘর্ম হতে হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথম বছরই বিদায় নেন। অভ্যন্তরীণ নীতির মতো ট্রাম্পের বৈশ্বিকনীতিও বড্ড গোলমেলে, যার ভার বিশ্বকে বইতে হচ্ছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।





