ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে সরকার

প্রকাশ:

কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনারের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরির (আইসিটি) অ্যাডভোকেট জেনারেলের মাধ্যমে এই আবেদনটি দাখিল করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষকে দুই দিনের মধ্যে ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ওই হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পিটিআই এবং ইমরান খান বরাবরই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। মঙ্গলবার পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছিলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

বুধবার দাখিল করা পুনর্বিবেচনার আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট যে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন, তা আদালতের এখতিয়ার অতিক্রম করেছে এবং এটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারের যুক্তি, কারাগারে বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তরের আইনি বিধানগুলো আদালত আমলে নেয়নি, যার ফলে আদেশে স্পষ্ট ত্রুটি রয়ে গেছে। সরকার আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট অতিরিক্ত দায়রা জজের আদালত ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন, যার বিরুদ্ধে তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। এর আগে ১২ মার্চ হাইকোর্ট তার হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।

আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৭৮ সালের পাকিস্তান কারা বিধিমালার ১৯৭ নম্বর বিধির কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হয়। এছাড়া, হাসপাতালে স্থানান্তরিত বন্দীকে কঠোর পুলিশি নজরদারিতে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকার আরও দাবি করেছে, সংবিধানের ১০-এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়সংগত বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে উভয় পক্ষকে শুনানির নোটিশ দেয়া জরুরি। কিন্তু এই বিষয়টি প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য আসায় কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। পরিশেষে, সরকার জানিয়েছে যে ইমরান খানকে অতীতেও নিয়মিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যগত কারণে হাসপাতালে স্থানান্তরের আগে আদালতের উচিত ছিল চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া।

শেয়ার করুন