স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেন মাঠ ছাড়লেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কোর্তোয়া?

প্রকাশ:

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার জন্য হয়ে রইল এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা। ২-১ গোলে হারের এই ম্যাচে পায়ের চোটের কারণে তাকে বাধ্য হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। স্কোরলাইন তখন ১-১ সমতায় ছিল। ৭১ মিনিটে খেলার এক পর্যায়ে আর চালিয়ে যেতে না পারার ইঙ্গিত দেন তিনি এবং চোখের পানি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন।

কোর্তোয়া জানিয়েছেন, গোল কিক নেওয়ার সময় তিনি উরুতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটা গোল কিক নিয়েছিলাম আর তখন উরুতে অনেক ব্যথা অনুভব করি। কোচিং স্টাফকে জানিয়েছিলাম যে লম্বা গোল কিক নিতে গেলে ব্যথা লাগছে। তবে গোলপোস্টে থাকতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। শেষ পর্যন্ত কোচ আমাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, এতে কোনো সমস্যা নেই কারণ দলটাই সবার আগে।’ হাইড্রেশন ব্রেকের কিছুক্ষণ আগেই রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক চোট পান এবং মাঠেই তাকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সিন লেমেন্স, যা মূলত ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবারসির দূরপাল্লার শট লেমেন্স ঠিকঠাক সামলাতে না পারায় ফিরতি বলে গোল করেন মিকেল মেরিনো। এই জয়ের ফলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট নিশ্চিত করে।

মাঠ ছাড়ার আগে কোর্তোয়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিলেন। স্পেনের আক্রমণ ঠেকাতে তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের শটটি দিক পরিবর্তন করে জালে না জড়ালে তিনি গোলবঞ্চিতই থাকতেন। এছাড়া বল বিল্ডআপেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি ২৯টি পাসের মধ্যে ২২টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়া চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম ম্যাচ। এই ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে গোলরক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির ম্যানুয়েল নয়ার, যার মোট ম্যাচসংখ্যা ২৩টি।

শেয়ার করুন