শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

প্রকাশ:

নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। এই জয়ের ফলে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছাল দলটি। সেই সঙ্গে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে স্পেন নিজেদের সর্বকালের সেরা রেকর্ড গড়েছে, যা এখন ইতালির টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডের খুব কাছাকাছি। আগামী মঙ্গলবার সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে ফাবিয়ান রুইসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামালের পাস থেকে পেদ্রো পররোর ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দানি ওলমোর শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া ঠেকালেও ফিরতি বলে গোল করেন রুইস। এর আগে প্রথমার্ধেই বেলজিয়াম সমতায় ফেরে চার্লস দে কেতেলারের দুর্দান্ত হেডে, যা এসেছিল তিমোতি কাস্তানিয়ের ক্রস থেকে। এই গোলটি হজম করার মাধ্যমে ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া স্পেনের টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড ভেঙে যায়।

ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার চোট। মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি, যার পরিবর্তে বদলি হিসেবে নামেন সেন্নে লামেন্স। শেষ দিকে এই লামেন্স পাউ কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো সামলাতে না পারলে সেই সুযোগ কাজে লাগান মিকেল মেরিনো। এর আগে শেষ ষোলোর পর্তুগাল ম্যাচেও জয়সূচক গোলটি করেছিলেন তিনি।

এদিন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ ম্যাচ খেলেন, যা ১৮ বছর বা তার কম বয়সী ফুটবলারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড। অন্যদিকে, ম্যাচ শুরুর আগেই বেলজিয়াম বড় এক দুঃসংবাদ পায়। অনুশীলনে চোট পাওয়ায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্সকে একাদশ থেকে বাদ দিতে হয়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা টিলেমান্স শেষ ষোলোয় সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে দুটি গোল করেছিলেন।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল মূলত স্পেনের কাছে থাকলেও বেলজিয়াম বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে জেরেমি দকু ও কেভিন দে ব্রুইনের বোঝাপড়া স্পেনের রক্ষণভাগের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মেরিনোর গোলটিই স্পেনের জয় নিশ্চিত করে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একাদশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পেদ্রির বদলে ফাবিয়ান রুইসকে নামিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।

শেয়ার করুন