জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে ব্যাপক তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ শুরু হয়েছিল। তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে আসার পর দেশের মানুষ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন। তবে সফরসূচির অংশ হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে যে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। মূলত প্রায় ৫ কোটি টাকা (প্রায় চার লাখ মার্কিন ডলার) সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এবিসিসিআই-এর চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটির জন্য ৪ থেকে ৫ লাখ ডলার খরচের প্রয়োজন ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী ব্যয় করতে ইচ্ছুক নন। তবে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে সরকারি খরচে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানটি বাতিল হলেও স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিকল্প সংবর্ধনার চেষ্টা চলছে। তবে লন্ডনভিত্তিক বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খোকনকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, জাকির এইচ চৌধুরীসহ অনেক সিনিয়র নেতার অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন খোকন তার নিজস্ব বলয়ের লোকজনকে নিয়ে কমিটি পরিচালনা করছেন।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ও কমিটির অসম্পূর্ণতা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। নেতা-কর্মীদের দাবি, নিউইয়র্কের বিভিন্ন পর্যায়ের শত শত ব্যক্তির কাছ থেকে পদ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিন বছর আগে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলেও তা আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হয়নি এবং পদ দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শেখ অহিদুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় অন্ধকারে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই সংবর্ধনা শুধু সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানো নয়, বরং প্রবাসে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও বড় সুযোগ ছিল। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ কি শুধু ব্যয়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হবে? এর আগে গত বছর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সময় এনআরবি প্রোগ্রামে প্রবাসীরা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বাংলাদেশ মিশনের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন। এছাড়া জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান জানিয়েছেন, বড় পরিসরে নাগরিক সভা বাতিল হলেও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও ভাষণের সময় স্বাগত কর্মসূচি নিয়ে কাজ চলছে।





