তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লির অস্পষ্ট অবস্থান ও জল্পনা

প্রকাশ:

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ঢাকা এখন পর্যন্ত বলে আসছে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। একই সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের চিন্তকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিনার পুনর্বাসন ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন ধারা সংযোজন নিয়ে যে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন তাতে এসব তথ্যের কতটা সত্যি, কতটা অনির্ভরযোগ্য তা নিয়ে বিস্তর ফারাক রয়েছে। বাস্তবে বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক রিসেট নাকি হাসিনাকে ভারতে রেখেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কোনটি চূড়ান্ত করবে তা নিয়ে ভারতের অবস্থানে মনে হচ্ছে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্যে দিয়ে এটা প্রমাণিত যে, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের প্রেসক্রিপশনে আর চলবে না। বাংলাদেশের এই পরিবর্তন ভারত ততক্ষণ বুঝতে পারবে না যতক্ষণ না হাসিনা ও পলাতক আওয়ামী নেতাকর্মী, সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা বা আর্মি জেনারেল ভারত ছাড়ছেন। ঢাকার অনড় অবস্থানের কারণে দিল্লি মুখে বলছে তারা গত ৫ আগস্টে কী ঘটেছে তা তারা দেখছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ট্রিবিউনে জয়তী মালহোত্রা দাবি করছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে ব্রিকস সম্মেলনে আসবেন না তারেক রহমান। আবার এনডিটিভি বলছে এ মাসের শেষ সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন তারেক রহমান। ভারতে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়ে এক প্রতিবেদনে দি প্রিন্ট বলছে খুব শিগগিরই বাংলাদেশে এবার জেন জি আলফা রেভ্যুউলিশন ঘটবে। ভারতীয় চিন্তক বীণা সিক্রি, রিভা গাঙ্গুলি, রাধা দত্ত জুলাই আন্দোলনকে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান মানতে নারাজ। আনন্দবাজারে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে নেত্রী হাসিনার সাথে নিজে ও বিপুলসংখ্যক আওয়ামী নেতাকর্মীর একযোগে বাংলাদেশে উত্তাল গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টির আভাস দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বাংলাদেশী কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান তার এসএফ মিডিয়া নিউজে বলেছেন, র-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় সফরে এসে দাবি তোলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা রয়েছে তা বাতিল করতে হবে। বিচার করলে নতুন মামলা দিয়ে বিচার করতে হবে। ভারতের স্ট্র্র্যাট নিউজ গ্লোবাল বলছে, পরাগ জৈনর ঢাকা সফর দু’দেশের মধ্যেকার নিরাপত্তা সম্পর্কের নীরব বিন্যাস ও হাসিনাকে ঘিরে উত্তেজনাময় বিতর্কের মধ্যে নিরাপত্তা চ্যানেল সচল রাখার প্রয়াস।

ভারতীয় কূটনীতিকরা কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি বলেন, হাসিনা পালাননি। তাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। র-এর প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন শৈবাল রায় চৌধুরী। এই বৈঠকে মোবাইল মনিটরিং কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের নতুন রূপরেখা না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফরে যাওয়া ঠিক হবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন বটে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি এও বলেছেন, জুলাইয়ের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি আছে; কিন্তু ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাবে কি না তা তারাই ভেবে দেখবে।

শেয়ার করুন