১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে কী বলছে জামায়াত?

প্রকাশ:

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছুদিন ধরে একটি গুঞ্জন চলছে, আর তা হলো—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রকার সমঝোতা হতে যাচ্ছে কি না। এই আলোচনা আরও গতি পায় যখন জামায়াতের চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং একসময়ের মিত্র বিএনপির সঙ্গে দলটির টানাপড়েনের বিষয়টি সামনে আসে। তবে এ ধরনের সব সম্ভাবনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। দলটির নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা গণহত্যা ও জননিরাপত্তা নষ্টের জন্য দায়ী, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ঐক্যের সুযোগ নেই। গত ১লা অক্টোবর ফেনীর ফুলগাজীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রেক্ষাপটে মন্তব্য করেন যে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও গুপ্তদল পুনরায় একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক একটি স্থিরচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। সেই প্রদর্শনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের ছবি স্থান পেলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কথিত অ্যালায়েন্সের গুঞ্জনটি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার খোরাক জোগায়। যদিও জামায়াত পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তবে এই বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রস্তুতি রেখেছি।

জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মসূচির দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। মূলত এসব ইস্যু ঘিরেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে বড় ধরনের লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে। এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার যে খবর চাউর হয়েছে, সেটিরও সত্যতা খুঁজছে সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াতের একাংশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। দেশ জুড়ে লংমার্চ কর্মসূচির কারণে এ পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। জোটের সূত্র মতে, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগস্ট মাস থেকেই সারা দেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন করে লংমার্চের পরিকল্পনা চলছে। ১৪ই নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশের দিনক্ষণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট ৭৭টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে এবং তাদের ১২ জন নারী সংসদ সদস্য সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন। সংসদের ভেতরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নজরদারি এবং রাজপথে কর্মসূচি—উভয় কৌশলই তারা সমান গুরুত্বের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জাতি একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে। তিনি আরও যোগ করেন, যারা ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রচার করছে, তা দেশবাসীর জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো অ্যালায়েন্সের প্রশ্নই আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৪-এর গণহত্যার দায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করতে জামায়াত বদ্ধপরিকর। তার ভাষ্যমতে, জামায়াতের রাজনীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং তারা সব সময় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো আপসের জায়গা নেই এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনাটাই এখন মূল লক্ষ্য।

শেয়ার করুন