তাহাজ্জুদের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়ার ৭টি আমল

প্রকাশ:

নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদের নামাজ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। শেষ রাতে বা চতুর্থ প্রহরে এই নামাজ আদায় করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বান্দার ডাকে সাড়া দেন, তাদের চাওয়া পূরণ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে ক্ষমা করে দেন (বোখারি: ১১৪৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং আয়েশা (রা.)-কে তা কখনো না ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অসুস্থ বা দুর্বলতা বোধ করলে তিনি বসেও এই নামাজ আদায় করতেন (আবু দাউদ: ১৩০৯)।

অনেকে তাহাজ্জুদ আদায়ের ইচ্ছা থাকলেও ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। তাদের জন্য হাদিসে এমন ৭টি আমলের কথা বলা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করলে তাহাজ্জুদের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। প্রথমত, জামাতের সঙ্গে এশা ও ফজর নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন পুরো রাত তাহাজ্জুদ পড়ল (আবু দাউদ: ৫৫৫)। দ্বিতীয়ত, রাতে পবিত্র কোরআনের ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভাষ্যমতে, যে রাতে ১০০ আয়াত পড়বে, তার জন্য সারা রাত ইবাদতের সওয়াব লেখা হবে (মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯৫৮)।

তৃতীয়ত, তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ঘুমানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ঘুমায় কিন্তু ঘুমের কারণে জাগতে পারেনি, তার জন্য নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব লেখা হবে এবং তার ঘুম সদকাস্বরূপ গণ্য হবে (নাসায়ি: ১৭৮৭)। চতুর্থত, ইমামের সঙ্গে পুরো তারাবির নামাজ আদায় করা। আবু জর গিফারি (রা.)-এর প্রশ্নের জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত নামাজ পড়ে, তাকে পুরো রাত নামাজ আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হয় (আবু দাউদ: ১৩৭৫)। ইসলামি স্কলারদের মতে, এখানে নামাজ বলতে রমজানের তারাবিকে বোঝানো হয়েছে (মিরকাতুল মাফাহিত, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৮)।

পঞ্চমত, বিধবা ও মিসকিনদের সহযোগিতা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাদের অভাব দূরীকরণে সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে তাহাজ্জুদ ও দিনে রোজা পালনকারীর সমান সওয়াব পাবে (বোখারি: ৫৩৫৩)। ষষ্ঠত, আদব ও সুন্নত মেনে জুমার নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, সে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর রোজা ও তাহাজ্জুদ পড়ার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে (আবু দাউদ: ৩৪৫)। সবশেষে, আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের জন্য পাহারাদারি করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় এক দিন ও এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস রোজা রাখা ও তাহাজ্জুদ পড়ার চেয়েও শ্রেষ্ঠ (মুসলিম: ১৯১৩)।

শেয়ার করুন