ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছেন যে, কেবল গালিগালাজ, অশ্লীল ভাষা কিংবা অশালীন শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনগতভাবে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য হবে না। বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট করেছেন, কোনো বক্তব্যকে অশ্লীল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে হলে সেটিতে কামোদ্দীপক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে, যা যৌন লালসাকে উসকে দেয় এবং মানুষের মনকে কলুষিত বা বিকৃত করার প্রবণতা রাখে।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে এই রায় দেওয়া হয়। মূলত ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারার অধীনে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা হাইকোর্ট বহাল রাখলে আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত শুক্রবার দেওয়া রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলো আক্ষরিক অর্থে সত্য হলেও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলোকে অশ্লীল বলা সম্ভব নয়। আদালতের মতে, অপমানজনক, কুরুচিপূর্ণ বা অমার্জিত শব্দ ব্যবহার করা হলেও তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(খ) ধারায় বর্ণিত অশ্লীলতার সংজ্ঞা পূরণ করে না।
আদালত আরও ব্যাখ্যা করেন, এই আইনের ধারায় অপরাধ প্রমাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—সংশ্লিষ্ট আচরণটি প্রকাশ্য স্থানে অন্যদের বিরক্তির কারণ হতে হবে। কিন্তু বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, যার ফলে ২৯৪(খ) ধারার অধীনে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই।
মামলার সূত্রপাত ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তামিলনাড়ুর একটি কৃষিজমি নিয়ে বিরোধের জেরে। প্রথমে আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর শ্যালকের বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং দুই দিন পর একই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নের সঙ্গে আরেকটি বিরোধের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, ওই সময় অভিযোগকারী হস্তক্ষেপ করলে আবেদনকারী তাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেন এবং জাতিভিত্তিক কটূক্তি করেন।
বিচারিক আদালত আবেদনকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(খ) (অশ্লীলতা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) ও ৫০৬(২) (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাকে এসসি/এসটি আইনের অধীন অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও দণ্ডবিধির অধীনে সাজা বহাল রাখেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে এই পর্যবেক্ষণ এল।




